ইয়েনের রেকর্ড দরপতন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের যৌথ পদক্ষেপ

জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে প্রথমবারের মতো যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করল জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

ডলার দিয়ে ইয়েন কিনতে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি গতকাল নিশ্চিত করেছে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এতে জাপানে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এককভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেও খুব বেশি স্থায়ী ফল পায়নি টোকিও। এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে পদক্ষেপ নিল জাপান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েন ও জাপানের সরকারি বন্ডের (জেজিবি) বড় ধরনের দরপতন ঠেকানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কারণ ইয়েনের দুর্বলতা ও জাপানি বন্ডবাজারে অস্থিরতা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার আরো বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২০১১ সালের পর এবারই প্রথম ইয়েনের পক্ষে জাপানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করল যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার পর ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। ১ ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৫ দশমিক ২০-এ উঠে আসে। মে মাসের শুরুর পর এটিই ছিল ইয়েনের সর্বোচ্চ দর।

এর আগে গত মাসে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর প্রায় ১৬৪-তে নেমে ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহে সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছিল বিওজে। তবে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকেই সুদহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যাংকটি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ফের এ ধরনের যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিতে দ্বিধা করবে না। একই সঙ্গে ইয়েনের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে জাপানের নেয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করেন তিনি। পাশাপাশি বিওজের আরো সুদহার বাড়ানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলেন, ইয়েনের দরপতন দীর্ঘদিন ধরেই জাপানের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল ইয়েনের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানি পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ব্যয়েও।

এর আগে গত এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের শুরুর দিকে এককভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল জাপান। তাতে ইয়েনের দর সাময়িকভাবে বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি। জুনে বিওজে সুদহার বাড়িয়ে ১ শতাংশে নেয়ার পরও ইয়েনের দরপতন ঠেকানো যায়নি।

তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েনের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা ঠেকানো কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়া এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদহারের বড় ব্যবধান এখনো ইয়েনের ওপর চাপ তৈরি করছে।

আরও